সর্বশেষ

» সিলেটের তাঁতীপাড়া থেকে গ্রেপ্তার- ১০, উদ্ধার-১

প্রকাশিত: ০৯. মার্চ. ২০২৬ | সোমবার

সিলেট বিএম ডেস্ক ::: সিলেটে ভয়ংকর ১০ অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানাপুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) বিকালে এ তথ্য জানায় সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল। তারা জানায়, রবিবার রাতে নগরীর তাঁতীপাড়ার ৫৬নং বাসায় অভিযান চালিয়ে এই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় একজন ভিকটিমকেও উদ্ধার করা হয়েছে।

 

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সিলেটের মোগলাবাজার থানার গোটাটিকর এলাকার সেলিম আহমদ ও জানাত আরা নাজুর ছেলে তানজিম মাহবুব নিশান (২১), উপশহর বি ব্লকের ১৫ নং রোডের ১৫নং বাসার মো. মোক্তাদির ও রনি বেগমের ছেলে আহসান হাবিব মুন্না (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার মন্ডলপুর গ্রামের মো. ফয়জুল করিম ও মোছা. শেফা বেগমের ছেলে বর্তমানের নগরীর হাওয়াপাড়া ৫৬নং বাসার বাসিন্দা জুবাইন আহমদ (১৯), জালালাবাদ থানার আমানতপুর গ্রামের আব্দুল মন্নান ও আসমা খানমের ছেলে বর্তমানে নগরীর শিবগঞ্জ লামাপাড়া মোহিনী ১০২/৩০নং বাসার বাসিন্দা সুফিয়ান আহমদ (১৯), এয়ারপোর্ট থানার চৌকিদেখী এলাকার ৬৪/১নং বাসার মো. আনোয়ার মিয়া ও রোকেয়া বেগমের ছেলে মো. জাকির হোসেন (১৯), কাজীটুলা বিহঙ্গ-৭০নং বাসার আবুল হোসেন ও শেওলা বেগমের ছেলে মো. মারজান (১৯), সুনামগঞ্জের ছাতক থানার রায়সত্তরপুর গ্রামের মো. সুজন মিয়া ও মোছা. স্বপ্না বেগমের ছেলে বর্তমানের নগরীর হাউজিং এস্টেটের বর্ণী-৪২নং বাসার বাসিন্দা মোসাদ্দেক আলী (১৮). হাওয়াপাড়া দিশামরী ৮১নং বাসার রুমান আহমদ ও মুন্নি আক্তারের ছেলে ফারদিন আহমদ (১৮), শিবগঞ্জ মজুমদারপাড়ার মো. রতন ও কবিতা খানমের ছেলে জয়নাল আবেদীন রাব্বি (১৮) হাওয়াপাড়া দিশারী-৪৪নং বাসার মানিক মিয়া ও জোস্না বেগমের ছেলে মিজান আহমদ (১৮)।

এসময় তাদের হেফাজতে থাকা অপহৃত এক প্রবাসী জাহিদ আহমদকেও (৪২) উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে। জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃতরা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের চক্রের সক্রিয় সদস্য এবং নগরীতে তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

 

রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তারা নগরীর তাঁতীপাড়া পয়েন্ট থেকে সুনামগঞ্জের মাহতাবপুর গ্রামের মৃত খোকা সরকারের ছেলে ও বর্তমানে নগরীর জালালাবাদ থানাধীন গোয়াবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সুহেল সরকারকে (২২) অপহরণ করে তাঁতীপাড়াস্থ ৫৬নং বাসা ‘নাজমা নিবাসে’র দ্বিতীয় তলায় নিয়ে আটকে রাখে। তারা চাকু কেচি ইত্যাদি দিয়ে ভয় দেখিয়ে লোহার রড ও স্টিক দিয়ে মারধোর করে তার নিকট ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় ও তার মোবাইল সেটটি রেখে দেয়।

এরপর তারা তার জামা-কাপড় খোলে ভিডিও ধারণ করে পুলিশ বা অন্য কাউকে বিষয়টি জানালে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।

 

সুহেল দ্রুত কোতোয়ালী মডেল থানাপুলিশকে অবগত করলে বন্দরবাজার ফাঁড়ির একদল সদস্য তাঁতীপাড়ার নাজমা নিবাসে অভিযান চালায়। বাসার দ্বিতীয় তলা থেকে এই ১০ অপরাধীকে সনাক্ত করেন সুহেল সরকার নিজে।

 

এ ব্যাপারে সুহেল নিজে বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন। আর আসামিদের সবাইকে আদালতে সোপর্দের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

উল্লেখ্য যে, ২ জন ভিকটিমের ২টি মোবাইল সেট ও নগদ টাকা, ঘটনায় ব্যবহৃত কেচি, চাকু, লোহার রুল আসামীদের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।