সর্বশেষ

» জাফলং-বিছানাকান্দিতে পর্যটকের ঢল, ভিড়ের সাথে বাড়ছে ভোগান্তিও

প্রকাশিত: ২২. মার্চ. ২০২৬ | রবিবার

গোয়াইনঘাট :: পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ঈদের দিন থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে পর্যটকরা ছুটে আসছেন জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট ও পান্থুমাইসহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এলাকাগুলোতে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জাফলংয়ের চা-বাগান, জিরো পয়েন্ট ও আশপাশের ঝরনাগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়। পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানি, বিছানাকান্দির বিস্তীর্ণ পাথুরে প্রান্তর ও পাহাড়ি ঝর্ণা, আর রাতারগুলের অনন্য জলাবন-সব মিলিয়ে পর্যটকদের কাছে এসব স্থান হয়ে উঠেছে অন্যতম আকর্ষণ।

বাগেরহাট থেকে আগত পর্যটক রাকিবুল হাসান সজিব বলেন, “সারাবছর কর্মব্যস্ততার মধ্যে থাকি। ঈদের ছুটিতে একটু স্বস্তি খুঁজতেই এখানে আসা। জায়গাগুলো সত্যিই দারুণ, তবে বিছানাকান্দি জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত সড়কের অবস্থা হতাশাজনক।”

অন্যদিকে শাহনূর আহমদ আয়ান বলেন, “রাতারগুলে নৌকায় ভ্রমণের অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন। মনে হয়েছে যেন দেশের ভেতরেই অন্য এক জগতে চলে গেছি।”

পর্যটকদের এই ব্যাপক আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। নৌকা মাঝি, হোটেল-রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মাঝে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।
জাফলংয়ের নৌকা মাঝি আজিজুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আগে আয় একেবারেই কম ছিল। এখন পর্যটক বাড়ায় প্রতিদিন ভালো আয় হচ্ছে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, “ঈদের দিন থেকেই দোকানে ভিড় বেড়েছে। পানি, খাবার ও স্থানীয় পণ্যের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।”

তবে পর্যটকদের এই উপচে পড়া ভিড়ের সঙ্গে নানা সমস্যাও সামনে এসেছে। অনেক জায়গায় যানজট, অতিরিক্ত নৌকা ভাড়া, অপরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং সড়কের বেহাল অবস্থার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে জাফলং ও রাতারগুল এলাকায় নৌকা ভাড়া বৃদ্ধি এবং লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারে অনিয়ম লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ভ্রমণপ্রেমী মো. আইনবী বলেন, “সিলেটের সৌন্দর্য অসাধারণ, তবে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত হলে ভ্রমণ অনেক বেশি উপভোগ্য হতো।”

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে এবং পর্যটন সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ, জাফলং জোনের ইনচার্জ তপন তালুকদার বলেন, “পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করছি। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কোনো ধরনের অনিয়ম যেন না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঈদকে কেন্দ্র করে এই পর্যটক সমাগম স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করেছে এবং পর্যটননির্ভর মানুষের জীবিকা সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নতি ও টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলো দেশের অন্যতম অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হতে পারে।