সর্বশেষ

» ব্যবসায়ী নেতা দিলওয়ার হোসেনকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ২৭. জুলাই. ২০২৬ | সোমবার

সিলেট বিএম ডেস্ক :: সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি, সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক, সিলেট কয়লা আমদানিকারক গ্রুপের সাবেক সভাপতি এবং সিলেট জেলা ইট প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির বর্তমান সভাপতি অসুস্থ আলহাজ্ব মো. দিলওয়ার হোসেনকে দেখতে গিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
গত রবিবার (২৬ জুলাই) বাদ আসর নগরীর মাছিমপুরস্থ আলহাজ্ব মো. দিলওয়ার হোসেনের বাসভবনে যান জামায়াত আমীর। এসময় তিনি চিকিৎসাধীন এই জ্যেষ্ঠ ব্যবসায়ী নেতার পাশে কিছু সময় কাটান, তাঁর শারীরিক ও চিকিৎসার সার্বিক খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন।

এসময় ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আলহাজ্ব মো. দিলওয়ার হোসেন সিলেটের ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বছরের পর বছর ধরে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়ে সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজকে সংগঠিত রেখেছেন এবং সাধারণ ব্যবসায়ীদের স্বার্থরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।অর্থনীতিতে তাঁর এই অবদান কেবল ব্যবসায়ী সমাজই নয়, পুরো সিলেটবাসী শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে ফরিয়াদ জানাই, তিনি যেন আমাদের প্রিয় এই অভিভাবককে দ্রুত পূর্ণ সুস্থতা দান করেন। তিনি যেন সুস্থ শরীরে আবারও সমাজ ও ব্যবসায়ীদের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পারেন, সেই তৌফিক দান করুন। অসুস্থতা মানুষের জীবনের একটি পরীক্ষা, পরম করুণাময় যেন তাঁর এই অসুস্থতাকে গুনাহ মাফের উসিলা বানান এবং তাঁকে হায়াতে তাইয়্যেবা নসিব করেন।

এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগরীর আমীর মোঃ ফখরুল ইসলাম, সেক্রেটারি মো. শাহাজান আলী, নায়েবে আমীর নুরুল ইসলাম বাবুল, কোতোয়ালি থানা আমীর আজিজুল ইসলাম, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সুহেল আহমদ রিপন, ব্যবসায়ী মকবুল হোসেন, ব্যবসায়ী নুরুল আলম, ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির ও ব্যবসায়ী জুনেদ আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

সিলেট বিভাগজুড়ে পৃথক অভিযানে-র‌্যাবের জালে ৯

সিলেট বিভাগজুড়ে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে অনলাইন জুয়া, মাদক কারবারি এবং হত্যা মামলার সঙ্গে জড়িত মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)। শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রবিবার (২৬ জুলাই) ভোর পর্যন্ত সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ, দক্ষিণ সুরমা এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় পরিচালিত এসব অভিযানে তাদের আটক করা হয়। এসময় গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে জুয়া খেলার বিভিন্ন আলামত, মোবাইলফোন, বিপুল পরিমাণ ইয়াবা বড়ি ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।

মহানগরীর শাহপরান (রহ.) এলাকায় অভিযানে অনলাইন জুয়ার আসর থেকে ৪ জন গ্রেফতার করা হয়েছে। র‌্যাব-৯ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় সদর কোম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিলেট নগরের শাহপরান (রহ.) থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের খাদিম চৌমুহনী পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় অনলাইন জুয়া পরিচালনাকারী একটি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়।

 

 

গ্রেফতাররা হলেন- বিমানবন্দর থানার খাদিম চা বাগান এলাকার দীপ্ত চাষা (২১), অজয় কল (২৬), পাপলু তন্তবায় (২৬) এবং অন্তর নায়েক (২০)।

 

র‌্যাব জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার অ্যাপ ব্যবহার করে জুয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা চারটি স্মার্টফোনে জুয়া খেলার বিপুল আলামত পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬ অনুযায়ী মামলা দায়ের করে তাদের শাহপরাণ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

মহানগরীর দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবা বড়ি ও গাঁজাসহ ৩জন মাদক কারবারি আটক করা হয়। শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব-৯-এর আরেকটি দল দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা মসজিদ মার্কেটের পেছনে নদীর তীর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় ২৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ১.৫৫ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- দক্ষিণ সুরমার ভার্থখলা এলাকার মো. আকবর হোসেন (৩৮), হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মো. মোতালিব মিয়া (২২) এবং ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার মো. সাহিন (৩০)।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা র‌্যাবকে জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা ও গাঁজা সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা দিয়ে তাদের দক্ষিণ সুরমা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

 

অন্যদিকে কুমিল্লার হত্যা মামলার আরও দুই আসামি নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ব্যবসায়ী এনামুল হক (২৯) হত্যা মামলার আরও দুই আসামিকে নেত্রকোনা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে র‌্যাব-৯ (শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প) ও র‌্যাব-১৪ (ময়মনসিংহ) যৌথভাবে নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার দলপা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

 

গ্রেফতাররা হলেন- নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বেখৈরহাটী এলাকার কনক মিয়া এবং তার স্ত্রী সাগরিকা হিজরা।

র‌্যাব জানায়, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে গত ১৩ মে আসামিরা এনামুল হককে ডেকে নিয়ে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার একটি টিনশেড ঘরে হাত-পা বেঁধে তার শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৭ মে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।