সর্বশেষ

» শুক্রবার সিলেট থেকে ঢাকা যাবে বিশেষ ট্রেন

প্রকাশিত: ০২. এপ্রিল. ২০২৬ | বৃহস্পতিবার

সিলেট বিএম ডেস্ক ::: হবিগঞ্জের মাধবপুরে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে প্রায় ২০ ঘন্টা বন্ধ ছিলো সিলেটের সাথে দেশের রেল যোগাযোগ। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। এই ক্ষতি পোষাতে শুক্রবার সিলেট-ঢাকা রুটের ‘ব্যালেন্স এক্সপ্রেস’ নামে স্পেশাল একটি ট্রেন চালু করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে সিলেট থেকে ছেড়ে যাবে ট্রেনটি। ঢাকা পৌঁছা পর্যন্ত ট্রেনটি চারটি স্টেশনে থামবে।

তেলবাহী ওয়াগন ট্রেন দুর্ঘটনার কারণে বুধবার রাতে উপবন ট্রেন ঢাকায় যেতে না পারায় সিলেটের যাত্রীদের জন্য শুক্রবার বিশেষ এই ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে বিশেষ ট্রেনটি সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে। পথিমধ্যে কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল, শায়েস্তাগঞ্জ ও ঢাকা বিমানবন্দরে থামবে ট্রেনটি।

কুলাউড়ায় সকাল ৯টা ২৭ মিনিটে, শ্রীমঙ্গলে সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে, শায়েস্তাগঞ্জে সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে ১টা ৩৩ মিনিটে পৌঁছাবে। আর নির্ধারিত গন্তব্য ঢাকায় ট্রেনটি পৌঁছাবে ২টা ১০ মিনিটে।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল ইসলাম জানান, তেলবাহী ওয়াগন দুর্ঘটনার কারণে বুধবার ঢাকাগামী উপবন সিলেট স্টেশন ছেড়ে যেতে পারেনি। শুক্রবার কালনী এক্সপ্রেস বন্ধ রয়েছে। তাই ওইদিন যাত্রীদের সুবিধার্থে স্পেশাল ট্রেনটি ছেড়ে যাবে।

এদিকে, প্রায় ২০ ঘন্টা পর সিলেটের সাথে দেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার মনতলা রেলস্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার বিকেলে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়। মনতলা স্টেশন মাস্টার আতাউর রহমান খাদেম বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জানা যায়, জ্বালানি তেলভর্তি চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি মালবাহি ট্রেন বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেল স্টেশন অতিক্রমকালে ৬ বগি লাইনচ্যুত হয়। এরমধ্যে ৫টি বগি লাইনের পাশে উল্টে পড়ে যায় এবং একটি বগি পাশের ডুবার পানিতে পড়ে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পরপরই পড়ে যাওয়া তেল সংগ্রহ করতে হিড়িক পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। যে যেভাবে পারে তেল সংগ্রহ করা শুরু করে। একপর্যায়ে বিষয়টি বেগতিক দেখে তেল লুটের হিড়িকরোধে ঘটনাস্থলে যায় বিজিবি, পুলিশ ও সেনাবাহিনী।

হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সৈয়দ ইশতিয়াক মোরশেদ জানান- বিজিবির উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও জারিকেন সংগ্রহ করে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে। এ উদ্যোগের ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাও সম্ভব হয়েছে।

রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কামরুজ্জামান আরো বলেন- লাইনচ্যুত হওয়া বগিগুলোর মধ্যে ডিজেল ছিল। প্রতিটা বগিতে প্রায় ৩৯ হাজার লিটার তেল ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ লিটার তেল ছিলো ট্রেনে।