সর্বশেষ

» জাফলংয়ে শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ, দূর হলো দীর্ঘদিনের ভোগান্তি

প্রকাশিত: ০৮. এপ্রিল. ২০২৬ | বুধবার

গোয়াইনঘাট ::: সিলেটের জাফলংয়ে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগে নির্মিত হলো একটি চলাচলযোগ্য রাস্তা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় নালার ওপর অস্থায়ী খুঁটির সেতু পেরিয়ে স্কুলে যাতায়াত করা প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর ভোগান্তির অবসান ঘটেছে এই উদ্যোগে।

জানা যায়, জাফলং গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যাতায়াতের পথে বড় বাধা ছিল একটি নালা। নালার ওপর অস্থায়ীভাবে বসানো দুর্বল সিমেন্টের খুঁটির ওপর দিয়েই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠত, বাড়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধানে অবশেষে এগিয়ে আসে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরের দিকে তারা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নালার ওপর মাটি ভরাট করে একটি ব্যবহারযোগ্য রাস্তা নির্মাণ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই নির্মিত এই রাস্তা এখন শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীরা জানায়, আগে স্কুলে আসতে ভয় লাগত, বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে ঝুঁকি আরও বেড়ে যেত। এখন রাস্তা হওয়ায় তারা স্বস্তিতে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি করিম মাহমুদ লিমন বলেন, স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্থানীয় যুব সমাজের উদ্যোগে পরিচালিত হয়ে আসছে। নালার ওপর বিছানো সিমেন্টের খুঁটির ওপর দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো। শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং এটি অন্যান্য পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের এমন সচেতন ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ছোট্ট এই উদ্যোগে বড় একটি সমস্যার সমাধান হয়েছে।

তবে তারা উল্লেখ করেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি পুরোপুরি অবহিত নই। সরেজমিনে যাচাই-বাছাই না করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয়।