সর্বশেষ

» সিলেটে কিশোর গ্যাং–রাজনীতির সিনিয়র–জুনিয়র দণ্ডে প্রতি বছর বেড়ে চলছে খুনোখুনি

প্রকাশিত: ০১. ডিসেম্বর. ২০২৫ | সোমবার

এস’কে শাহীন:-

সিলেট মহানগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাং–রাজনীতির দ্বন্দ্ব উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। স্থানীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক দলে “সিনিয়র–জুনিয়র দণ্ড” বা স্তরভিত্তিক ক্ষমতাকাঠামো এখন কিশোরদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে—ফলে প্রতি বছর বহু যুবক ও কিশোর খুন, আহত কিংবা স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শহরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মহল্লা ও চা–বাগানসংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা ছোট-বড় গ্যাংগুলো এখন দলীয় রাজনীতির ছায়ায় চলতে শুরু করেছে। তাদের মধ্যে কে ‘সিনিয়র’, কে ‘জুনিয়র’, কে কোন নেতা বা কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ—এসব প্রশ্নই অনেক সময় প্রাণঘাতী সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

কীভাবে গ্যাং গড়ে উঠছে?

স্থানীয়দের মতে, কয়েকটি কারণে সিলেটে কিশোর অপরাধ বাড়ছে—
• রাজনৈতিক নেতাদের প্রভাব বিস্তারে কিশোরদের ব্যবহার
• স্থানীয়ভাবে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা
• মহল্লাভিত্তিক আধিপত্য তৈরির চেষ্টা
• শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হওয়া
• পারিবারিক নজরদারির অভাব
• সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্যাং কালচারের প্রভাব

ফলে ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোররা নিজেদের দল তৈরি করে, নিজেদের মধ্যে ‘সিনিয়র–জুনিয়র’ সম্পর্ক তৈরি করে এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষের অংশ হয়ে যায়।

প্রতি বছর বাড়ছে খুন–জখম

স্থানীয় পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে
•রাজনৈতিক মিছিলে অংশ নিতে গ্যাংগুলোকে ব্যবহার করা হয়
•দলীয় পদ ও প্রভাব নিয়ে বিরোধ থেকে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে
•ছোট বিরোধও বড় সহিংসতায় রূপ নেয়
•কিছু এলাকায় কিশোরদের হাতে ধারালো অস্ত্র পাওয়া যাচ্ছে

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, “রাজনীতির ভেতরে সিনিয়র–জুনিয়র দণ্ড এখন কিশোর অপরাধে বড় সমস্যা।
অনেক কিশোর নিজেদের রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।”

** অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্বেগ**

বিভিন্ন স্কুল–কলেজ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে,
• ক্লাসের বাইরে গ্যাং-নেতৃত্বাধীন গ্রুপিং
• শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানো
• টিকটক–লাইভে অস্ত্র প্রদর্শন
এসব বিষয় ইতিমধ্যেই শিক্ষার পরিবেশকে নষ্ট করছে।

এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের সন্তানরা রাজনীতি বোঝে না। কিন্তু এলাকায় কোন গ্রুপ শক্তিশালী—সেটা নিয়ে তারা নিজেদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে
1.সিলেটে কিশোর গ্যাং সমস্যার মূল উৎস হলো দলীয় রাজনীতির অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব।
2.সিনিয়রদের ক্ষমতাবাদী মনোভাব ও জুনিয়রদের উত্থানের তাড়না সংঘর্ষ বাড়ায়।
3.শিক্ষা, নৈতিকতা ও নেতৃত্বগুণ না দেখে প্রভাবশালী হওয়ার প্রতিযোগিতা কিশোর সমাজকে বিপথে নিচ্ছে।

তাদের পরামর্শ—
রাজনীতিতে যোগ্যতা, শিক্ষা এবং নেতৃত্বগুণকে মূল্যায়নের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
অন্যথায় আগামীতে সিলেটের নিরাপত্তা–সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

সমাধানের প্রস্তাব

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের সুপারিশ করেছেন
•মহল্লাভিত্তিক কিশোরদের কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন
•পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি
•রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার
•শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা কর্মসূচি
• অভিভাবকদের সক্রিয় নজরদারি
•গণমাধ্যমে গ্যাং-কালচারের বিরুদ্ধে প্রচার

সিলেটে কিশোর গ্যাং–রাজনীতির সহিংসতা শুধু আইন–শৃঙ্খলা নয়, সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি। রাজনৈতিক সিনিয়র–জুনিয়র দণ্ডে কিশোরদের জীবনযুদ্ধ থামাতে এখনই প্রয়োজন শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।