সর্বশেষ

» সিলেট-৩ আসনের নবাগত প্রার্থী নিয়ে ভোটারদের ভাবনা

প্রকাশিত: ১২. নভেম্বর. ২০২৫ | বুধবার

সিলেট-৩ নির্বাচনী আসন। সিটির পাশাপাশি অবস্থান। প্রবেশমুখ চণ্ডীপুল পাড়ি দিলেই তিনের সীমানা। উপকণ্ঠের আসন। গুরুত্ব অনেক বেশি। বিএনপি’র প্রার্থী ঘোষণার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ভোটাররা দিনরাত মাতিয়ে রাখতেন চণ্ডীপুল। দলে দলে বসে থাকতেন নেতাকর্মীরা। সেই দৃশ্য এখন নেই। পিন-পতন নীরবতা। ভোটারদের মধ্যে কোনো সাড়া-শব্দ নেই। পান দোকানি, সিএনজিচালক কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতেই জানান- একক প্রার্থী ঘোষণা করায় আমেজ কিছুটা কমেছে। এখন যাকে প্রার্থী করা হয়েছে, তিনি ভোটের মাঠে নবাগত। তাকে অনেকেই চিনেন না। ফলে নীরব থেকে পরিস্থিতি পরখ করছেন ভোটাররা। সিলেট-৩ আসনে এবার মনোনয়ন নিয়ে বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে চাঙ্গা ছিল ভোটের মাঠ। আসনের দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা প্রার্থীদের শোডাউনে কেঁপেছে। হাটে-মাঠে-ঘাটে- সবখানেই ছিল প্রার্থীদের নিয়ে মাতামাতি। হঠাৎ করে নীরব হয়ে পড়েছে তিন উপজেলা। এ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে মাঠে সক্রিয় ছিলেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সভাপতি এমএ মালিক, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্ট্রার এমএ সালাম, জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী, জেলা স্বেচ্ছাসেবদলের আহ্বায়ক আবদুল আহাদ খান জামাল, নগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি ব্যারিস্টার রিয়াসদ আজিম আদনান। বিএনপি’র পক্ষ থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়েছে এমএ মালিকের। মালিক আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন লন্ডনে বসে। কিন্তু কখনোই নিজের নির্বাচনী আসনে ভোটের মাঠে নামেননি। অনেকেই তাকে চিনলেও বাড়ি কোথায় জানতেন না। এবারই নির্বাচনের মাঠে প্রথম নামলেন এবং নিশ্চিত করলেন দলের মনোনয়ন। এটি নিয়ে দল এবং দলের বাইরেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

মনোনয়ন দৌড়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ছিলেন ব্যারিস্টার সালাম ও কাইয়ূম চৌধুরী। দক্ষিণ সুরমার জালালপুর বাজারে কথা হয় অটোরিকশাচালক আজমল আলীর সঙ্গে। বলেন- আমজনতার কাছে এ প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা নেই। তাকে গ্রামের মানুষ চিনে না। একই কথা বলেছেন- জালালপুর ইউপি বিএনপি’র কর্মী মোজাফ্‌ফর আহমদও। তার মতে; যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সবাই মেনে নিতেন। এখন মেনে নিতে সবার কষ্ট হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী সিলামে ব্যবসায়ী তমজ্জির আলী বলেন- মালিক সাহেব বেশিদিন আগে ভোটের মাঠে নামেননি। কিন্তু বিগত দিনে যারা দলীয় মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় ছিলেন তারা বিগত ১৭ বছর দেশে থেকে, মামলা নির্যাতনের মুখে থেকেও বিএনপি’র ঝাণ্ডা নিয়ে সক্রিয় ছিলেন। তাদের মধ্যে থেকে যে কাউকে মনোনয়ন দিলে মানুষ সহজেই মেনে নিতো। সিলাম ও জালালপুরের মধ্যবর্তী এলাকা বিরাহীমপুর। ওই গ্রামের বাসিন্দা মুক্তার আলী বিএনপি’র ঘোষিত প্রার্থী নিয়ে হতাশ। বলেন- এমএ মালিককে ভোটাররা এখনো মেনে নিতে পারছেন না। সালাম, কাইয়ূম, জামাল সহ কয়েকজন মাঠে ছিলেন। তারা আন্দোলন, নির্বাচন সবখানেই জনগণের সঙ্গে ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে কাউকে মনোনয়ন দিলে ভালো হতো। সিলেট-৩ আসনের ভোটারের এই ভাবনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায় বিএনপি নেতাদের ভাষ্যেও। যদিও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু প্রার্থী নিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছার বিষয়টি নিয়ে তারা দোলাচলে আছেন। মানুষ তো প্রার্থীকে এখনো চিনে না। প্রার্থীও ভোটারকে চেনেন না। চিনাতে হবে। এজন্য কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। এটি মেনে নিয়েই তারা মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আসনের তিনটি উপজেলায়ও ধানের শীষের পক্ষে বেশির ভাগ নেতাকর্মী ঐক্যবদ্ধ থাকলেও প্রার্থীর থেকে কেউ কেউ দূরে রয়েছেন। যেটি নিয়ে দলের উপজেলা পর্যায়ের সিনিয়র নেতারা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছেন। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি উপজেলায়ও বিএনপি’র তরফ থেকে বর্ধিত সভা হচ্ছে। সোমবার দক্ষিণ সুরমায় হয়েছে, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জে সভার প্রস্তুতি চলছে। জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ জানিয়েছেন- মাঠে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা কাজ করছি। মান-অভিমান ভুলে সবাই এককাতারে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে তার কথার ভিন্ন সুর মিললো তৃণমূলের নেতাদের কথায়। দক্ষিণ সুরমার সিলাম ইউপি বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক পাবেল রহমান জানালেন, এমএ মালিক নতুন প্রার্থী, পুরাতন নেতা। অল্প সময়ের মধ্যে তাকে নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে ভোটের হাওয়া তৈরি করা চ্যালেঞ্জ হবে। বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমদ সোহেল মনে করেন, যেসব সম্ভাব্য প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করছেন তাদের পক্ষেই ছিলেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

এখন নতুন প্রার্থী ঘোষণা করায় তৃণমূলে সাড়া শব্দ কম। তৃণমূলকে চাঙা করা কষ্টসাধ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান- তিনি। একই ইউনিটের সিনিয়র সহ-সভাপতি লুৎফুর রহমান জানিয়েছেন- বিএনপি যদি ঐক্যবদ্ধ ভোটের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাহলে বিজয় পাওয়া সম্ভব। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি ওয়াহিদুজ্জামান সুফি চৌধুরী জানালেন- ভোটের মাঠে ঘোষিত প্রার্থীর অনেক ‘গ্যাপ’ রয়েছে। কারণ, এলাকায় তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। তাকে নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। দলের কর্মীরা তার পক্ষে ফাইট না করলে ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে, জেলা বিএনপি’র সভাপতি এমএ কাইয়ূম চৌধুরী এ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। তিনি জানিয়েছেন- প্রার্থী ঘোষণার পর একটি নির্দিষ্ট আসনে জেলার নেতাদের নজর নেই। আমরা বলেছি সিলেটের ৬টি আসনই আমরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। সেই লক্ষ্যে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। ইতিমধ্যে দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থকরা মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এবং নিরলসভাবে কাজ করছেন বলে জানান- তিনি।

           

এই বিভাগের আরো খবর