সর্বশেষ

» ৯৬ ঘণ্টায় ২০০ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারাল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ০৪. মার্চ. ২০২৬ | বুধবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::: আনাদোলুর খবরে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন ওপেন-সোর্স গোয়েন্দা প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শনিবার (২৮ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত প্রায় ১.৯০২ বিলিয়ন (প্রায় ২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির নেপথ্যে রয়েছে ইরানের নিখুঁত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা।

সবচেয়ে বড় আঘাতটি এসেছে কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে। সেখানে অবস্থিত ১.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি এন/এফপিএস-১৩২ প্রাথমিক সতর্কতা রাডার সিস্টেম ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-রুওয়াইস শিল্প নগরীতে মোতায়েন করা থাড অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল সিস্টেমের একটি রাডার ধ্বংস হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ৫০০ মিলিয়ন ডলার।

একইভাবে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরে হামলায় আরও ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের দুটি স্যাটেলাইট যোগাযোগ টার্মিনাল ধ্বংস হয়েছে।

আকাশপথে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটেছে কুয়েতে। সেখানে স্থানীয় বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভুলবশত ছোড়া গুলিতে তিনটি মার্কিন এফ-১৫ ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে ২৮২ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

উল্লেখ্য, শনিবার থেকে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে, কুয়েতের ক্যাম্প আরিফজানে হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া ইরাকের এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও কুয়েতের আলী আল সালেম ও ক্যাম্প বুহরিং ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র স্যাটেলাইট ও ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। দুবাইয়ের জেবেল আলী বন্দরেও মার্কিন নৌবাহিনীর ব্যবহৃত একটি ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।

একইভাবে, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর বাইরেও সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলো হামলার শিকার হয়েছে। রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় কম্পাউন্ডের ভেতরে থাকা সিআইএ স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কুয়েত সিটির মার্কিন দূতাবাসে ‘নৃশংস’ হামলার পর সেটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়ে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দুবাইতে মার্কিন কনস্যুলেট প্রাঙ্গণেও একটি ড্রোন আঘাত হেনেছে, তবে সেখানে বড় কোনো কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।

মাত্র ৯৬ ঘণ্টার এই যুদ্ধে আমেরিকার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ইরানের এই প্রতিশোধমূলক আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যকে এক চরম চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।